পবিত্র শবে বরাত, দলীল, গুরুত্ব, তাৎপর্য ও আমল।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।---১
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
الْحَمْدُ للَّهِ، نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ شَهَادَةً تَكُونُ لِلنَّجَاةِ وَسِيلَةً، وَلِرَفْعِ الدَّرَجَاتِ كَفِيلَةً، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ الامین وعلی اله واصحابه اجمعین اما بعد
যে সকল রজনীতে আল্লাহপাক তাঁর বান্দাদের প্রতি করুণার দৃষ্টি দান করে থাকেন, শবে বরাত তারই অন্যতম। রাতটি হলো শাবান মাসের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাত।
প্রিয় নবী ﷺ সলফে সালেহীন এবং বিজ্ঞ মনীষীগণ এ রাতটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে পালন করেছেন। অনুরূপভাবে যুগে যুগে মুসলমানগণ এরই ধারাবাহিকতায় এ রাতটি পালন করে আসছেন।
আরবী ‘শা’বান’ ( شَعْبَانَ), শব্দটি تشعب
থেকে গৃহীত। এর অর্থ ছড়ানো ও শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট হওয়া।
ইমাম রাফে’ হযরত আনাস (রা:)-র উক্তি লিখেছেন, হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে যে, এ মাসের নাম ‘শা’বান’ এ জন্য রাখা হয়েছে যে, এ মাসে রোযা পালনকারীর সাওয়াব, মঙ্গল ও সৌন্দর্য শাখা-প্রশাখার ন্যায় বিস্তার লাভ করে, যাতে রোযাদার জান্নাতে প্রবেশ করতে পারে।আরবী ১২ মাসের অষ্টম মাস শাবান। শাবানের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাত্রটি কোরআনের ভাষায়- ليلة مباركة (লাইলাতুম মুবারাকা) বা বরকতময় রজনী,
আর হাদীসের ভাষায়----لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَان
(লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান) বা শাবানের মধ্য রজনী।
তাফসীরের ভাষায় ليلة الصك (লাইলাতুছ্ ছাক) বা সনদপ্রাপ্তির রাত্রি, ليلة النجاة (লাইলাতুন নাজাহ) তথা মুক্তি রজনী। আর আমাদের উপমহাদেশে যাকে শবে বরাত বলে আমরা জানি তা ফারসী ভাষা থেকে উদ্ভূত। শব (شب) বা রাত ও বরাত (برات) বা ভাগ্য, পবিত্রতা, নাজাত, মুক্তি, ত্রাণ ইত্যাদি। এছাড়াও এর আরো অনেক নাম রয়েছে। যেমন- لیلة البراءة বা পাপ মুক্তির রজনী,لیلة القسمة বা বন্টনের রজনী ليلة التكفير বা গুণাহের কাফ্ফারার রাত,لیلة الاجابة বা দোয়া কবুলের রাত, لیلة عید الملاٸکةবা ফেরেস্তাদের ঈদের রাত, ليلة الجاٸزة বা প্রতিদানের রাত।
পবিত্র কোরআন ও নির্ভরযোগ্য মুফাসসিরগণের মতে পবিত্র শবে বরাতঃ--
মধ্য শাবানের রাত্রি যা কোরআনের পরিভাষায় লাইলাতুম মুবারাকা নামে পরিচিত। এ রাতটির মর্যাদা, অস্তিত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব কোরআন ও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।
ইদানিং একটি ভ্রান্ত-মতবাদী দল বিভিন্ন মিডিয়ায় তাদের বক্তব্য, আলোচনায় এবং লেখনীতে সর্বদা এ কথা বলে বেড়াচ্ছে যে, লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাতের নির্ভরযোগ্য কোন দলীল কোরআন ও হাদীস শরীফে নেই। যা আছে তাও মাওজু তথা বানোয়াট বা জাল কিংবা সাংঘাতিক পর্যায়ের দুর্বল। অথচ, দেখুন পবিত্র কোরআনে কারীম ও নির্ভরযোগ্য তাফসিরের কিতাবের ভাষ্য-
সূরা দুখানের ১-৪ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন
সূরা আদ-দুখান (الدّخان), আয়াত: ১
حمٓ۔وَٱلْكِتَٰبِ ٱلْمُبِينِ۔إِنَّآ أَنزَلْنَٰهُ فِى لَيْلَةٍ مُّبَٰرَكَةٍ إِنَّا كُنَّا مُنذِرِينَ۔-فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ۔
উচ্চারণঃ হা-মীম। ওয়াল কিতা-বিল মুবীন। ইন্নাআনঝালনা-হূফী লাইলাতিম মুবা-রাকাতিন ইন্না-কুন্না-মুনযিরীন।ফীহা-ইউফরাকুকুল্লুআমরিন হাকীম।
হা-মীম, এ স্পষ্ট কিতাবের শপথ! নিশ্চয়ই আমি তা বরকতময় রাতে অবতীর্ণ করেছি। নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। এ রাতে বন্টন করে দেওয়া হয় প্রত্যেক হিকমতের কাজ।
১.। তাফসীরে জালালাইন শরীফে ৪১০ পৃষ্ঠায় বর্ণিত আছে-
تفسير الجلالين [المحلي، جلال الدين]
الكتاب: تفسير الجلالين المؤلف: جلال الدين محمد بن أحمد المحلي (ت ٨٦٤هـ) وجلال الدين عبد الرحمن بن أبي بكر السيوطي (ت ٩١١هـ) الناشر: دار الحديث - القاهرة الطبعة: الأولى عدد الصفحات: ٨٢٧ [ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
{إنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَة مُبَارَكَة} هِيَ لَيْلَة الْقَدْر أَوْ لَيْلَة النِّصْف مِنْ شَعْبَان نَزَلَ فِيهَا مِنْ أُمّ الْكِتَاب مِنْ السَّمَاء السَّابِعَة إلَى سَمَاء الدُّنْيَا {إنَّا كُنَّا مُنْذِرِينَ} مُخَوِّفِينَ به
{فِيهَا} أَيْ فِي لَيْلَة الْقَدْر أَوْ لَيْلَة النِّصْف مِنْ شَعْبَان {يُفْرَق} يُفْصَل {كُلّ أَمْر حَكِيم} مُحَكَّم مِنْ الْأَرْزَاق وَالْآجَال وَغَيْرهمَا الَّتِي تَكُون فِي السَّنَة إلَى مِثْل تِلْكَ اللَّيْلَة
নিশ্চয়ই আমি তা বরকতময় রাতে অবতীর্ণ করেছি। আর বরকতময় রাত হল লাইলাতুল ক্বদর (ক্বদরের রাত) অথবা লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান (শাবানের মধ্য রাত তথা শবে বরাত)। কেননা এই রাতে উম্মুল কিতাব (কোরআন শরীফ) ৭ম আসমান থেকে দুনিয়ার আসমানে (১ম আসমান) নাযিল হয়েছে। নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী।
২।তাফসীরে জালালাইন শরীফে ৪১০ পৃষ্ঠায় ২৪নং হাশিয়ায় বর্ণিত আছে-
الْفَصْلُ الْأَوَّلُ
لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ . هُوَ قَوْلُهُ عکرمة وطاءفة وَوَجْه بامرر مِنْهَا أَنَّ لَيْلَةَ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ وَلَهَا أَرْبَعَةُ أَسْمَاءٍ : اللَّيْلَة الْمُبَارَكَة , وَلَيْلَةُ الْبَرَاءَةِ , وَلَيْلَة الصَّكّ , وَلَيْلَة الرَّحْمَة وَمِنْهَا فَضْلِ الْعِبَادَةِ فیها۔
৩। . তাফসীরে তাবারী শরীফ পৃষ্ঠা-২২ , খন্ড ১০ -এ বর্ণিত আছে-
عَنْ مُحَمَّدِ بْنُ سوفة , عَنْ عِكْرِمَةَ فِى قَوْلِ اللَّهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى (فيها يُفْرَقُ كُلّ أَمْرٍ حكيم) قَال : فِى لَيْلَةٍ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ يُبْرِم فِيهَا أَمْرٌ السُّنَّةَ وتنسخ الْإِحْيَاءِ مَنْ الْأَمْوَاتِ وَيَكْتُب الْحَاجّ فَلَا يُزَادُ فِيهِمْ أَحَدٌ , وَلَا يَنْقُصُ مِنْهُمْ أَحَدٌ .
كَذَا أَخْرَجَ ابْنُ جَرِيرٍ وَابْنُ مُنْذِر وَابْنُ أَبِى حَاتِم وَكَذَا فِى رَوْحٌ المعانى-
আল্লাহ তায়ালার বাণী فِيهَا يُفْرَقُ كُلّ أَمْرٍ حَكِيمٍ --এর তাফসীরে বিশিষ্ট তাবেয়ী হযরত ইকরামা (রা : ) হতে বর্ণিত , তিনি বলেন , মধ্য শাবানের রাত্রিতে বছরের সকল ব্যাপার চূড়ান্ত করা হয় , জীবিত ও মৃতদের তালিকা লেখা হয় এবং হাজীদের তালিকা তৈরি
ইমাম কুরতুবী (রা:) বলেন, এ রাতের ৪ টি নাম আছে-
ক. লাইলাতুম মুবারাকা, খ.লাইলাতুল বারাআত
গ. লাইলাতুছ্ ছাক, ঘ. লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান।
যেমন ইমাম কুরতুবি তাঁর প্রসিদ্ধ তাফসির গ্রন্থে উল্লেখ করেন,
وَاللَّيْلَة الْمُبَارَكَة لَيْلَةَ الْقَدْرِ . وَيُقَال : لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ ، وَلَهَا أَرْبَعَةُ أَسْمَاءٍ اللَّيْلَة الْمُبَارَكَة ، وَلَيْلَةُ الْبَرَاءَةِ ، وَلَيْلَة الصَّكّ ، وَلَيْلَةِ الْقَدْرِ . وَوَصَفَهَا بِالْبَرَكَةِ لِمَا يَنْزِلُ اللَّهُ فِيهَا عَلَى عِبَادِهِ مِنْ الْبَرَكَات وَالْخَيْرَاتِ وَالثَّوَاب
আয়াতে ليلة مباركة বা বরকতময় রজনী মানে শবে ক্বদরকে বুঝানো হয়েছে। আবার কেউ কেউ বলেছেন- তা হলো শাবানের মধ্যরজনী (ليلة النصف من شعبان) কে বুঝানো হয়েছে। এ রাতটির চারটি নাম উল্লেখ রয়েছে। আর তাহলো- লাইলাতুল মুবারাকাহ্ ও লাইলাতুছ্ ছাক। আর এ রাতকে ‘বরকতময় রজনী’ হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে। কেননা এ রাতে আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের উপর অগণিত বরকত, কল্যাণ ও পূণ্য অবতীর্ণ করে থাকেন।
تفسير القرطبي = الجامع لأحكام القرآن [القرطبي، شمس الدين]
وَعَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ:) إِذَا كَانَ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ اطَّلَعَ اللَّهُ عَلَى أُمَّتِي فَغَفَرَ لِكُلِّ مُؤْمِنٍ
وَالْعِشْرُونَ- رُوِيَ عَنْ حُذَيْفَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: (يَا معاشر الناس اتقوا الزنى فَإِنَّ فِيهِ سِتَّ خِصَالٍ ثَلَاثًا فِي الدُّنْيَا وَثَلَاثًا فِي الْآخِرَةِ فَأَمَّا اللَّوَاتِي فِي الدُّنْيَا فَيُذْهِبُ الْبَهَاءَ وَيُورِثُ الْفَقْرَ وَيُنْقِصُ الْعُمُرَ وَأَمَّا اللَّوَاتِي فِي الْآخِرَةِ فَيُوجِبُ السَّخَطَ وَسُوءَ الْحِسَابِ وَالْخُلُودَ فِي النَّارِ (. وَعَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ:) إِنَّ أعمال أمتي تعرض على كُلِّ جُمُعَةٍ مَرَّتَيْنِ فَاشْتَدَّ غَضَبُ اللَّهِ عَلَى الزُّنَاةِ (. وَعَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ:) إِذَا كَانَ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ اطَّلَعَ اللَّهُ عَلَى أُمَّتِي فَغَفَرَ لِكُلِّ مُؤْمِنٍ لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا إِلَّا خَمْسَةً سَاحِرًا وكاهنا وعاقا لوالديه ومدمن خمر ومصرا على الزنى (.
[[سورة النور (٢٤): آية ٣]]
الزَّانِي لَا يَنْكِحُ إِلاَّ زانِيَةً أَوْ مُشْرِكَةً وَالزَّانِيَةُ لَا يَنْكِحُها إِلاَّ زانٍ أَوْ مُشْرِكٌ وَحُرِّمَ ذلِكَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ (٣)
تفسير القرطبي = الجامع لأحكام القرآن [القرطبي، شمس الدين]
وَعَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ:) إِذَا كَانَتْ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَقُومُوا لَيْلَتَهَا وَصُومُوا نَهَارَهَا فَإِنَّ اللَّهَ يَنْزِلُ لِغُرُوبِ الشَّمْسِ إِلَى سَمَاءِ الدُّنْيَا يَقُولُ أَلَا مُسْتَغْفِرٌ فَأَغْفِرَ لَهُ أَلَا مُبْتَلًى فَأُعَافِيَهُ أَلَا مُسْتَرْزِقٌ فَأَرْزُقَهُ أَلَا كَذَا أَلَا كَذَا حَتَّى يَطْلُعَ الْفَجْرُ) ذَكَرَهُ الثَّعْلَبِيُّ. وَخَرَّجَ التِّرْمِذِيُّ بِمَعْنَاهُ عَنْ عَائِشَةُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: (إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَنْزِلُ لَيْلَةَ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ إِلَى سَمَاءِ الدُّنْيَا فَيَغْفِرُ لِأَكْثَرِ مِنْ عَدَدِ شَعْرِ غَنَمِ كَلْبٍ (. وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ قَالَ أَبُو عِيسَى: حَدِيثُ عَائِشَةَ لَا نَعْرِفُهُ مَرْفُوعًا إِلَّا مِنْ حَدِيثِ الْحَجَّاجِ بْنِ أَرْطَاةَ عَنْ يَحْيَى بْنِ أبي كثيرة عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ، وَسَمِعْتُ مُحَمَّدًا يُضَعِّفُ هَذَا الْحَدِيثَ، وَقَالَ: يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ عُرْوَةَ وَالْحَجَّاجُ بْنُ أَرْطَأةَ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ. قُلْتُ: وَقَدْ ذَكَرَ حَدِيثَ عَائِشَةَ مُطَوَّلًا صَاحِبُ كِتَابِ الْعَرُوسِ، وَاخْتَارَ أَنَّ اللَّيْلَةَ الَّتِي يُفْرَقُ فِيهَا كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ لَيْلَةَ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ، وَأَنَّهَا تُسَمَّى لَيْلَةَ الْبَرَاءَةِ. وَقَدْ ذَكَرْنَا قَوْلَهُ وَالرَّدَّ عَلَيْهِ فِي غَيْرِ هَذَا الْمَوْضِعِ، وَأَنَّ الصَّحِيحَ إِنَّمَا هِيَ لَيْلَةُ الْقَدْرِ عَلَى ما بيناه. روى حماد ابن سَلَمَةَ قَالَ أَخْبَرَنَا رَبِيعَةُ بْنُ كُلْثُومٍ قَالَ: سَأَلَ رَجُلٌ الْحَسَنَ وَأَنَا عِنْدَهُ فَقَالَ: يَا أَبَا سَعِيدٍ، أَرَأَيْتَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ أَفِي كُلِّ رَمَضَانَ هِيَ؟ قَالَ: إِي وَاللَّهِ»
الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ، إِنَّهَا فِي كُلِّ رَمَضَانَ، إِنَّهَا اللَّيْلَةُ الَّتِي يُفْرَقُ فِيهَا كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ، فِيهَا يَقْضِي اللَّهُ كُلَّ خَلْقٍ وَأَجَلٍ وَرِزْقٍ وَعَمَلٍ إِلَى مِثْلِهَا. وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: يُكْتَبُ مِنْ أُمِّ الْكِتَابِ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ مَا يَكُونُ فِي السَّنَةِ مِنْ مَوْتٍ وَحَيَاةٍ وَرِزْقٍ وَمَطَرٍ حَتَّى الْحَجَّ، يُقَالُ: يَحُجُّ فُلَانٌ وَيَحُجُّ فُلَانٌ. وَقَالَ فِي هَذِهِ الْآيَةِ: إِنَّكَ لَتَرَى الرَّجُلَ يَمْشِي فِي الْأَسْوَاقِ وَقَدْ وَقَعَ اسْمُهُ فِي الْمَوْتَى، وَهَذِهِ الْإِبَانَةُ لِأَحْكَامِ السُّنَّةِ إِنَّمَا هِيَ لِلْمَلَائِكَةِ الْمُوَكَّلِينَ بِأَسْبَابِ الْخَلْقِ. وَقَدْ ذَكَرْنَا هَذَا الْمَعْنَى آنِفًا. وَقَالَ الْقَاضِي أَبُو بَكْرِ بْنُ الْعَرَبِيِّ: وَجُمْهُورُ الْعُلَمَاءِ عَلَى أَنَّهَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ. وَمِنْهُمْ مَنْ قَالَ: إِنَّهَا لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ، وَهُوَ بَاطِلٌ لِأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَالَ فِي كِتَابِهِ الصَّادِقِ الْقَاطِعِ:" شَهْرُ رَمَضانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ" «٢» [البقرة: ١٨٥] فَنَصَّ عَلَى أَنَّ مِيقَاتَ نُزُولِهِ رَمَضَانُ، ثُمَّ عين من زمانه الليل ها هنا بقوله" فِي لَيْلَةٍ مُبارَكَةٍ"،
৪.। তাফসীরে বাগভী পৃষ্ঠা-২২৮, খন্ড ৭ -এ বর্ণিত আছে
عن ابن عباس رضى الله عن ما أن الله يقضى الأقضية فى ليلة النصف من
شعبان, ويسلمها إلى أربابها فى ليلة القدر-
নিশ্চয়ই আল্লাহ সকল বিষয়ের চূড়ান্ত ফয়সালা করেন শবে বরাতের রাতে এবং তা সংশ্লিষ্ঠ দায়িত্ববান ফেরেস্তাদের কাছে ন্যস্ত করেন শবে ক্বদরের রাতে।
হযরত ইমাম বাগাভী এ আয়াতের তাফসীরে ৪থ খ ১২২পৃ বলেন-
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ--حم (١) وَالْكِتابِ الْمُبِينِ (٢) إِنَّا أَنْزَلْناهُ فِي لَيْلَةٍ مُبارَكَةٍ إِنَّا كُنَّا مُنْذِرِينَ (٣) فِيها يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ (٤)
أَمْراً مِنْ عِنْدِنا إِنَّا كُنَّا مُرْسِلِينَ (٥)-حم (١) وَالْكِتابِ الْمُبِينِ (٢) إِنَّا أَنْزَلْناهُ فِي لَيْلَةٍ مُبارَكَةٍ، قَالَ قَتَادَةُ وَابْنُ زَيْدٍ: هِيَ لَيْلَةُ الْقَدْرِ أَنْزَلَ اللَّهُ الْقُرْآنَ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ مِنْ أُمِّ الْكِتَابِ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا، ثُمَّ نَزَلَ بِهِ جبريل عَلَى [١] النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نُجُومًا فِي عِشْرِينَ سَنَةً. وَقَالَ آخَرُونَ هِيَ لَيْلَةُ النِّصْفِ من شعبان.
ইমাম ক্বাতাদাহ্ এবং ইবনে যায়েদ বলেন- এটি হলো ক্বদরের রাত। আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর নিকট সংরক্ষিত উম্মুল কিতাব (মূল কিতাব) থেকে ক্বদরের রাতকে পৃথিবীর আকাশে কোরআন নাযিল করেন। অতঃপর হযরত জিব্রাঈল বিশ বছর কাল যাবৎ ধরে ধাপে তা প্রিয় নবীর নিকট নিয়ে আসেন। আর অন্যরা বলেছেন- এটি হলো ‘শাবানের মধ্য রজনী’।
৫।আল্লামা জমখ্শরী তাঁর ‘কাশ্শাফ’খন্ড নং- ৪ পৃষ্ঠা নং ২৬৯-২৭০ নামক তাফসীর গ্রন্থে সুরা দুখানের প্রথম তিন আয়াতের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেন-
ثُمَّ إنَّ لَيْلَةَ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ لَهَا أَرْبَعَةُ أَسْمَاءٍ : اللَّيْلَة الْمُبَارَكَة ، وَلَيْلَةُ الْبَرَاءَةِ ، وَلَيْلَة الصَّكّ ، وَلَيْلَة الرَّحْمَة ، وَقِيلَ إنَّمَا سُمِّيَتْ بِلَيْلَة الْبَرَاءَة ، وَلَيْلَة الصَّكّ ، لِأَنّ البُنْدَار إذَا اسْتَوْفَى الْخَرَاجِ مِنْ أَهْلِهِ كُتِبَ لَهُمْ الْبَرَاءَةُ ، كَذَلِك اللَّه عزّ وجلّ يَكْتُب لِعِبَادِهِ الْمُؤْمِنِينَ الْبَرَاءَةِ فِي هَذِهِ اللَّيْلَةِ .
এমন অনেক মুফাসসির ও মুহাদ্দিসগন এ রাতের আরো বভিন্ন নাম বর্ণনা করেছেন।
আর আয়াতে ليلة مباركة 'লাইলাতুম মুবারাকা'র ব্যাখ্যায় মুফাসসিরগন লাইলাতুল কদরের পাশাপাশি লাইলাতুন নিসফি মিন শা'বান তথা শবে বরাত উদ্দেশ্য বলে উল্লেখ করেন।
#সংশয়ের_নিরসনঃ অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে লাইলাতুম মুবারাকা যদি শা'বানের মধ্যবর্তী রাত হয় তবে সুরা কদরে আল্লাহর ঘোষণা অনুযায়ী কুর'আন অবতীর্ণ হয়েছে রমজানের শেষ দশের কোন বিজোড় রাত তথা শবে কদরে। অথচ সুরা দুখানে আসছে শা'বানের মধ্যবর্তী রাতে। মিলতো পাচ্ছি না!
৬।তাফসির এ তাবারী
تفسير الطبري------وَقَوْله : { إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَة مُبَارَكَة } أَقْسَمَ جَلَّ ثَنَاؤُهُ بِهَذَا الْكِتَاب , أَنَّهُ أَنْزَلَهُ فِي لَيْلَة مُبَارَكَة . وَاخْتَلَفَ أَهْل التَّأْوِيل فِي تِلْكَ اللَّيْلَة , أَيّ لَيْلَة مِنْ لَيَالِي السَّنَة هِيَ ؟ فَقَالَ بَعْضهمْ : هِيَ لَيْلَة الْقَدْر . ذِكْر مَنْ قَالَ ذَلِكَ : 23998 - حَدَّثَنَا بِشْر , قَالَ : ثنا يَزِيد , قَالَ : ثنا سَعِيد , عَنْ قَتَادَة { إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَة مُبَارَكَة } : لَيْلَة الْقَدْر , وَنَزَلَتْ صُحُف إِبْرَاهِيم فِي أَوَّل لَيْلَة مِنْ رَمَضَان , وَنَزَلَتْ التَّوْرَاة لِسِتِّ لَيَالٍ مَضَتْ مِنْ رَمَضَان , وَنَزَلَ الزَّبُور لِسِتّ عَشْرَة مَضَتْ مِنْ رَمَضَان , وَنَزَلَ الْإِنْجِيل لِثَمَان عَشْرَة مَضَتْ مِنْ رَمَضَان , وَنَزَلَ الْفُرْقَان لِأَرْبَعٍ وَعِشْرِينَ مَضَتْ مِنْ رَمَضَان . * - حَدَّثَنَا ابْن عَبْد الْأَعْلَى , قَالَ : ثنا ابْن ثَوْر , عَنْ مَعْمَر , عَنْ قَتَادَة , فِي قَوْله : { فِي لَيْلَة مُبَارَكَة } قَالَ : هِيَ لَيْلَة الْقَدْر . 23999 -حَدَّثَنِي يُونُس , قَالَ : أَخْبَرَنَا ابْن وَهْب , قَالَ : قَالَ ابْن زَيْد , فِي قَوْله عَزَّ وَجَلَّ : { إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَة مُبَارَكَة إِنَّا كُنَّا مُنْذِرِينَ } قَالَ : تِلْكَ اللَّيْلَة لَيْلَة الْقَدْر , أَنْزَلَ اللَّه هَذَا الْقُرْآن مِنْ أُمّ الْكِتَاب فِي لَيْلَة الْقَدْر , ثُمَّ أَنْزَلَهُ عَلَى الْأَنْبِيَاء فِي اللَّيَالِي وَالْأَيَّام , وَفِي غَيْر لَيْلَة الْقَدْر . وَقَالَ آخَرُونَ : بَلْ هِيَ لَيْلَة النِّصْف مِنْ شَعْبَان . وَالصَّوَاب مِنَ الْقَوْل فِي ذَلِكَ قَوْل مَنْ قَالَ : عَنَى بِهَا لَيْلَة الْقَدْر , لِأَنَّ اللَّه جَلَّ ثَنَاؤُهُ أَخْبَرَ أَنَّ ذَلِكَ كَذَلِكَ لِقَوْلِهِ تَعَالَى : { إِنَّا كُنَّا مُنْذِرِينَ } خَلَقْنَا بِهَذَا الْكِتَاب الَّذِي أَنْزَلْنَاهُ فِي اللَّيْلَة الْمُبَارَكَة عُقُوبَتنَا أَنْ تَحِلّ بِمَنْ كَفَرَ مِنْهُمْ , فَلَمْ يَنُبْ إِلَى تَوْحِيدنَا , وَإِفْرَاد الْأُلُوهَة لَنَا .وَقَوْله : { إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَة مُبَارَكَة } أَقْسَمَ جَلَّ ثَنَاؤُهُ بِهَذَا الْكِتَاب , أَنَّهُ أَنْزَلَهُ فِي لَيْلَة مُبَارَكَة . وَاخْتَلَفَ أَهْل التَّأْوِيل فِي تِلْكَ اللَّيْلَة , أَيّ لَيْلَة مِنْ لَيَالِي السَّنَة هِيَ ؟ فَقَالَ بَعْضهمْ : هِيَ لَيْلَة الْقَدْر . ذِكْر مَنْ قَالَ ذَلِكَ : 23998 - حَدَّثَنَا بِشْر , قَالَ : ثنا يَزِيد , قَالَ : ثنا سَعِيد , عَنْ قَتَادَة { إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَة مُبَارَكَة } : لَيْلَة الْقَدْر , وَنَزَلَتْ صُحُف إِبْرَاهِيم فِي أَوَّل لَيْلَة مِنْ رَمَضَان , وَنَزَلَتْ التَّوْرَاة لِسِتِّ لَيَالٍ مَضَتْ مِنْ رَمَضَان , وَنَزَلَ الزَّبُور لِسِتّ عَشْرَة مَضَتْ مِنْ رَمَضَان , وَنَزَلَ الْإِنْجِيل لِثَمَان عَشْرَة مَضَتْ مِنْ رَمَضَان , وَنَزَلَ الْفُرْقَان لِأَرْبَعٍ وَعِشْرِينَ مَضَتْ مِنْ رَمَضَان . * - حَدَّثَنَا ابْن عَبْد الْأَعْلَى , قَالَ : ثنا ابْن ثَوْر , عَنْ مَعْمَر , عَنْ قَتَادَة , فِي قَوْله : { فِي لَيْلَة مُبَارَكَة } قَالَ : هِيَ لَيْلَة الْقَدْر . 23999 -حَدَّثَنِي يُونُس , قَالَ : أَخْبَرَنَا ابْن وَهْب , قَالَ : قَالَ ابْن زَيْد , فِي قَوْله عَزَّ وَجَلَّ : { إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَة مُبَارَكَة إِنَّا كُنَّا مُنْذِرِينَ } قَالَ : تِلْكَ اللَّيْلَة لَيْلَة الْقَدْر , أَنْزَلَ اللَّه هَذَا الْقُرْآن مِنْ أُمّ الْكِتَاب فِي لَيْلَة الْقَدْر , ثُمَّ أَنْزَلَهُ عَلَى الْأَنْبِيَاء فِي اللَّيَالِي وَالْأَيَّام , وَفِي غَيْر لَيْلَة الْقَدْر . وَقَالَ آخَرُونَ : بَلْ هِيَ لَيْلَة النِّصْف مِنْ شَعْبَان . وَالصَّوَاب مِنَ الْقَوْل فِي ذَلِكَ قَوْل مَنْ قَالَ : عَنَى بِهَا لَيْلَة الْقَدْر , لِأَنَّ اللَّه جَلَّ ثَنَاؤُهُ أَخْبَرَ أَنَّ ذَلِكَ كَذَلِكَ لِقَوْلِهِ تَعَالَى : { إِنَّا كُنَّا مُنْذِرِينَ } خَلَقْنَا بِهَذَا الْكِتَاب الَّذِي أَنْزَلْنَاهُ فِي اللَّيْلَة الْمُبَارَكَة عُقُوبَتنَا أَنْ تَحِلّ بِمَنْ كَفَرَ مِنْهُمْ , فَلَمْ يَنُبْ إِلَى تَوْحِيدنَا , وَإِفْرَاد الْأُلُوهَة لَنَا .'
সমাধান হলো, পবিত্র কুর'আনের মূল ঠিকানা হলো 'লাউহে মাহফুজ'। সেখান থেকে আল্লাহ পাক একসাথে তা নাযিল করেন দুনিয়ার আসমানে। পরবর্তীতে আল্লাহ পাক তাঁর হাবিবের (দঃ) কাছে প্রকাশ্য নবুয়ত কালব্যাপী বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে কিছু কিছু আয়াত করে পুরো কুর'আন নাযিল করেন।
*একবার লাউহে মাহফুজ থেকে আসমানে
*আরেকবার সেখান থেকে জিব্রাঈলের (আঃ) মাধ্যমে সর্বপ্রথম নবীজির কাছে ওহি নাযিল।
সুতরাং নাযিলে প্রসঙ্গ দুবার আসাটা অবাক হওয়ার নয়। আশা রাখি এই প্রশ্নের অবতারণা আর হবেনা।
#কী_হয়_এই_রাতে?
আল্লাহ পাক বলেন, فيها يفرق كل أمر حكيم এই রাতে (পূর্ণ বছরের) প্রজ্ঞাপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি নির্ধারণ করা হয়। (সুরা দুখান-০৪)
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম বাগাভী বলেন,
فِيهَا يُفْرَقُ كُلّ أَمْرٍ حَكِيمٍ : وَقَالَ عِكْرِمَةُ : هِيَ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ يُبْرِم فِيهَا أَمْرٌ السُّنَّةَ وتنسخ الْإِحْيَاءِ مَنْ الْأَمْوَاتِ فَلَا يُزَادُ فِيهِمْ أَحَدٍ وَلَا يَنْقُصُ مِنْهُمْ أَحَدٌ . وَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - قَال : " تُقْطَع الْآجَال مِنْ شَعْبَانَ إلَى شَعْبَانَ ، حَتَّى إنَّ الرَّجُلَ لِيَنْكِح وَيُولَدُ لَهُ وَلَقَد أَخْرَج اسْمُهُ فِي الْمَوْتَى " . وَرَوَى عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ - مَا : إنَّ اللَّهَ يَقْضِي الْأَقْضِيَة فِي لَيْلَةٍ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ ، وَيُسَلِّمَه
এতে সমগ্র বছরের সমস্ত বিষয়াদি নির্ধারণ করা হয়। (এ বছরে) মৃত্যু বরণকারী ব্যক্তিদের থেকে জীবিতদেরকে পৃথক করা হয়। এর একজনকেও বাড়ানো হয় না, কমানোও হয় না। নবীজি (দঃ) বলেন, এক শা'বান থেকে আরেক শা'বান পর্যন্ত মানুষের মৃত্যুসহ বছরের বিছরণকে নির্ধারণ করা হয়। এমনকি যে লোক এ বছরে বিয়ে করবে, যে শিশু জন্ম নিবে তাও নির্ধারণ হয়। মৃত্যুবরণকারী নাম জীবিতদের থেকে বের করা হয়।
★হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন শা'বানের মধ্যবর্তী রাত তথা শবে বরাতে আর এগুলোকে বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব ফেরেস্তাদের হাতে অর্পন করেন লাইলাতুল ক্বদরে।
كتاب تفسير النسفي = مدارك التنزيل وحقائق التأويل
৭।তাফসিরে নাসাফি-৩য় খন্ড -২৮৭
إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُبَارَكَةٍ إِنَّا كُنَّا مُنْذِرِينَ (٣) فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ (٤)
{ إِنَّآ أَنْزَلْنَاه فِى لَيْلَةٍ مُبَارَكَة } أَيُّ لَيْلَةٍ الْقَدْرِ أَوْ لَيْلَةَ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ وَقِيل بَيْنَهَا وَبَيْنَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ أَرْبَعُونَ لَيْلَةً وَالْجُمْهُورُ عَلَى الْأَوَّلِ لِقَوْلِهِ إِنَّا أَنْزَلْنَاه فِى لَيْلَةِ الْقَدْرِ وَقَوْلُهُ شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِى أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآن وَلَيْلَةِ الْقَدْرِ فِي أَكْثَرِ الْأَقَاوِيلِ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ ثُمَّ قَالُوا أَنْزَلَه جُمْلَةٍ مِنْ اللَّوْحِ الْمَحْفُوظِ إلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا ثُمَّ نَزَلَ بِهِ فِي وَقْتِ وُقُوعِ الْحَاجَةِ إلَى نَبِيِّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقِيلَ ابْتِدَاء نُزُولِهِ فِي لَيْلَةٍ الْقَدْرِ والمباركة الْكَثِيرَة الْخَيْر لِمَا يَنْزِلُ فِيهَا مِنْ الْخَيْرِ وَالْبَرَكَةِ ويستجاب مِنْ الدُّعَاءِ وَلَوْ لَمْ يُوجَدْ فِيهَا
إلَّا إنْزَالِ الْقُرْآنِ وَحْدَهُ لَكَفَى بِه بَرَكَة { إِنَّا كُنَّا مُنذِرِينَ فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمَر }
{ حَكِيم } { أَمْرًا مِنْ عِنْدِنَا إِنّا كُنَّا مُرْسِلِينَ }
هُمَا جُمْلَتَان مستأنفتان ملفوفتان فَسَّر بِهِمَا جَوَابُ الْقَسَمِ كَأَنَّهُ قِيلَ أَنْزَلْنَاه لِأَنَّ مَنْ شَأْنِنَا الْإِنْذَار وَالتَّحْذِيرِ مِنْ الْعِقَابِ وَكَان إنزالنا إيَّاهُ فِي هَذِهِ اللَّيْلَةِ خصوصاً لِأَنّ إنْزَالِ الْقُرْآنِ مِنْ الْأُمُورِ الحكيمية وَهَذِه اللَّيْلَة مَفْرِق كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ وَمَعْنَى يُفْرَقُ يَفْصِل وَيَكْتُب كُلُّ أَمْرٍ مِنْ أَرْزَاقٍ الْعِبَاد وَآجَالِهِم وَجَمِيع أُمُورُهُمْ مِنْ هَذِهِ اللَّيْلَةِ إِلَى لَيْلَةٍ الْقَدْرِ الَّتِي تَجِيء فِي السَّنَةِ الْمُقْبِلَةِ { حَكِيمٍ } ذِي حُكْمُهُ أَيْ مَفْعُولٌ عَلَى مَا تَقْتَضِيهِ الْحِكْمَةُ وَهُوَ مِنْ الْإِسْنَادِ الْمَجَازِيِّ لِأَنَّ الْحُكْمَ صِفَةً صَاحِبُ الأَمْرِ عَلَى الْحَقِيقَةِ وَوَصَف الْأَمْرُ بِهِ مَجَازًا
৮।তাফসির এ মাজহারী
التفسير المظهري [المظهري، محمد ثناء الله]
الكتاب: التفسير المظهري المؤلف: المظهري، محمد ثناء الله المحقق: غلام نبي التونسي الناشر: مكتبة الرشدية - الباكستان الطبعة: ١٤١٢ هـ [ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
حم (١) وَالْكِتابِ الْمُبِينِ (٢) إِنَّا أَنْزَلْناهُ فِي لَيْلَةٍ مُبارَكَةٍ إِنَّا كُنَّا مُنْذِرِينَ (٣) فِيها يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ (٤)
أَمْراً مِنْ عِنْدِنا إِنَّا كُنَّا مُرْسِلِينَ (٥)
قَوْلِهِ عَزَّ وَجَلَّ : حُمّ وَالْكِتابِ الْمُبِينِ يَعْنِي الْمُبِين مَا يَحْتَاجُ النَّاسُ إلَيْهِ مِنْ حَلَالٍ وَحَرَامٍ وَغَيْرِ ذَلِكَ مِنْ الْأَحْكَامِ إِنَّا أَنْزَلْناهُ فِي لَيْلَةٍ مُبارَكَةٍ قِيلَ هِيَ لَيْلَةُ الْقَدْرِ أَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى فِيهَا الْقُرْآنُ جُمْلَةٍ مِنْ اللَّوْحِ الْمَحْفُوظِ إلَى سَمَاءِ الدُّنْيَا ثُمَّ نَزَلَ بِهِ جِبْرِيلُ نُجُومًا عَلَى حَسَبِ الْوَقَائِع فِي عِشْرِينَ سَنَةً ، وَقِيلَ هِيَ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهَا قَالَتْ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلّى اللَّهُ عَلَيْهِ وسلّم « إنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى يَنْزِلُ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ إلَى سَمَاءِ الدُّنْيَا فَيَغْفِر لِأَكْثَرَ مِنْ عَدَدِ شَعْرِ غَنَمِ بَنِي كَلْبِ » أَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيّ . إِنَّا كُنَّا مُنْذِرِينَ أَي مخوفين عقابنا فِيها أَيْ فِي تِلْكَ اللَّيْلَةِ الْمُبَارَكَة يُفْرَقُ أَيْ يَفْصِلُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ أَي مُحْكَم ، قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ : يُكْتَب مِنْ أُمِّ الْكِتَابِ فِي لَيْلَةٍ الْقَدْرِ مَا هُوَ كَائِنٌ فِي السَّنَةِ مِنْ الْخَيْرِ وَالشَّرِّ وَالْأَرْزَاق وَالْآجَال حَتَّى الْحَجَّاج يُقَال : يَحُجّ فُلَان وَيَحُجّ فُلَان وَقِيلَ هِيَ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ يُبْرِم فِيهَا أَمْرٌ السُّنَّةَ وينسخ الْإِحْيَاءِ مَنْ الْأَمْوَاتِ ، وَرَوَى الْبَغَوِيّ بِسَنَدِهِ أَنَّ النَّبِيَّ صلّى اللَّهُ عَلَيْهِ وسلّم قَال « تُقْطَع الْآجَال مِنْ شَعْبَانَ إلَى شَعْبَانَ حَتَّى إنَّ الرَّجُلَ لِيَنْكِح وَيُولَدُ لَهُ وَقَدْ خَرَجَ اسْمُهُ فِي الْمَوْتَى » وَعَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ « إنَّ اللَّهَ يَقْضِي الْأَقْضِيَة فِي لَيْلَةٍ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ وَيُسَلِّمَهَا إلَى أَرْبَابِهَا فِي لَيْلَةٍ الْقَدْرِ » أَمْراً أَي أَنْزَلْنَا أَمْرًا مِنْ عِنْدِنا إِنَّا كُنَّا مُرْسِلِينَ يَعْنِي مُحَمَّدًا صلّى اللَّهُ عَلَيْهِ وسلّم وَمَنْ قَبْلَهُ مِنْ الْأَنْبِيَاءِ .
৯।তাফসিরে খাজিন-১৩ তম-খন্ড-১১০ পৃষ্ঠা
تَفْسِيرِ الْخَازِنِ لِبَاب التَّأْوِيلِ فِي مَعَانِي التَّنْزِيل [الخازن]
الْكِتَاب : لِبَاب التَّأْوِيلِ فِي مَعَانِي التَّنْزِيل الْمُؤَلِّف : عَلَاءُ الدِّينِ عَلِيٌّ بْنُ مُحَمَّدٍ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنُ عُمَرَ الشيحي أَبُو الْحَسَنِ ، الْمَعْرُوف بالخازن (ت ٧٤١هـ) تَصْحِيح : مُحَمَّدٌ عَلِيُّ شَاهِين النَّاشِر : دَارِ الكُتُبِ العِلْمِيَّةِ - بَيْرُوت الطَّبْعَة : الْأُولَى ، ١٤١٥ هـ [ترقيم الْكِتَاب مُوَافِقٌ للمطبوع]
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ حُمّ وَالْكِتابِ الْمُبِينِ الْكَلَامُ فِيهِ كَاَلَّذِي سَلَفَ فِي السُّورَةِ السَّابِقَة .
إِنَّا أَنْزَلْناهُ أَيْ الْكِتَابِ الْمُبِينَ الَّذِي هُوَ الْقُرْآنُ عَلَى الْقَوْلِ الْمُعَوَّلُ عَلَيْهِ فِي لَيْلَةٍ مُبارَكَةٍ هِيَ لَيْلَةُ الْقَدْرِ عَلَى مَا رُوِيَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ وَقَتَادَةُ وَابْنُ جُبَيْرٍ وَمُجَاهِدٌ ، وَابْنُ زَيْدٍ وَالْحَسَن وَعَلَيْهِ أَكْثَرُ الْمُفَسِّرِينَ وَالظَّوَاهِر مَعَهُم ، وَقَالَ عِكْرِمَةُ . وَجَمَاعَةٌ : هِيَ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ . وَتُسَمَّى لَيْلَة الرَّحْمَة وَاللَّيْلَة الْمُبَارَكَة وَلَيْلَة الصَّكّ وَلَيْلَةُ الْبَرَاءَةِ ، وَوَجْهُ تَسْمِيَتِهَا بِالْأَخِيرَيْن أَن البُنْدَار إذَا اسْتَوْفَى الْخَرَاجِ مِنْ أَهْلِهِ كُتِبَ لَهُمْ الْبَرَاءَةُ والصك كَذَلِكَ إنْ اللَّهَ عزّ وجلّ يَكْتُب لِعِبَادِهِ الْمُؤْمِنِينَ الْبَرَاءَة والصك فِي هَذِهِ اللَّيْلَةِ . وَظَاهِرُ كَلَامِهِمْ هُنَا أَنَّ الْبَرَاءَةَ وَهِيَ مَصْدَرُ بَرِىءٌ بَرَاءَةٍ إذَا تَخَلَّص تُطْلَقُ عَلَى صَكّ الْأَعْمَال وَالدُّيُون وَمَا ضَاهَاهَا وَأَنَّهُ وَرَدَ فِي الْآثَارِ ذَلِكَ وَهُوَ مَجَازٌ مَشْهُورٌ وَصَار بِذَلِك كَالْمُشْتَرَك ، وَفِي الْمُغْرِبِ بَرِيءٌ مِنْ الدَّيْنِ وَالْعَيْب بَرَاءَة ، وَمِنْه الْبَرَاءَة لِخَطّ الْإِبْرَاء وَالْجَمْع براءات وبروات عَامِّيَّةٌ اهـ .
وَأَكْثَرُ أَهْلِ اللُّغَةِ عَلَى أَنَّهُ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ الْعَرَبِ وَأَنَّه عَامِّيٌّ صَرْف وَإِنْ كَانَ مِنْ بَابِ الْمَجَازِ الْوَاسِع .
قَالَ ابْنُ السَّيِّدُ فِي الْمُقْتَضَبِ الْبَرَاءَةِ فِي الْأَصْلِ مَصْدَرٌ بَرِىءٌ بَرَاءَة ، وَأَمَّا الْبَرَاءَةُ الْمُسْتَعْمَلَةُ فِي صِنَاعَةِ الْكِتَاب فتسميتها بِذَلِكَ إمَّا عَلَى أَنَّهَا مِنْ بَرِيءٌ مِنْ دَيْنِهِ إذَا أَدَّاهُ وَبَرِئَتْ مِنْ الْأَمْرِ إذَا تخليت مِنْهُ فَكَانَ الْمَطْلُوبِ مِنْهُ أَمْرٌ تَبْرَأ إلَى الطَّالِبِ أَوْ تَخَلَّى ، وَقِيل : أَصْلِهِ أَنَّ الْجَانِيَ كَانَ إذَا جَنَى وَعَفَا عَنْهُ الْمِلْكُ كَتَبَ لَهُ كِتَابٌ أَمَانٌ مِمَّا خَافَه فَكَانَ يُقَالُ :
كُتُبِ السُّلْطَانِ لِفُلَان بَرَاءَة ثُمَّ عَمَّمَ ذَلِكَ فِيمَا كَتَبَ مِنْ أُولِي الْأَمْرِ وَأَمْثَالِهِم اهـ .
وَذَكَرُوا فِي فَضْلِ هَذِهِ اللَّيْل أَخْبَارًا كَثِيرَةً ، مِنْهَا مَا
أَخْرَجَهُ ابْنُ مَاجَهْ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي شُعَبِ الْإِيمَانِ عَنْ عَلِيٍّ كَرَّمَ اللَّهُ وَجْهَهُ قَالَ : « قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلّى اللَّهُ عَلَيْهِ وسلّم إذَا كَانَتْ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَقُومُوا لَيْلهَا وَصُومُوا نَهَارَهَا فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَنْزِل فِيهَا لِغُرُوبِ الشَّمْس إلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَيَقُولُ : أَلَا مُسْتَغْفِر فَأَغْفِر لَهُ إلَّا مسترزق فأرزقه إلَّا مُبْتَلًى فأعافيه إلَّا كَذَا إلَّا كَذَا حَتَّى يَطْلُعَ الْفَجْرُ »
وماأخرجه التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَالْبَيْهَقِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ : « فَقَدْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلّى اللَّهُ عَلَيْهِ وسلّم ذَاتَ لَيْلَةٍ فَخَرَجْت أَطْلُبُهُ فَإِذَا هُوَ بِالْبَقِيع رَافِعًا رَأْسَهُ إلَى السَّمَاءِ فَقَالَ يَا عَائِشَةُ : أَكُنْت تَخَافِينَ أَنْ يَحِيفَ اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْكَ وَرَسُولُهُ ؟ قُلْت : مَا بِي مِنْ ذَلِكَ وَلَكِنِّي ظَنَنْت أَنَّك أَتَيْت بَعْض نِسَائِك ، فَقَال : إنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَنْزِل لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ إلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَيَغْفِر لِأَكْثَرَ مِنْ عَدَدِ شَعْرِ غَنَمِ كَلْبٍ »
. وماأخرجه أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ فِي الْمُسْنَدِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلّى اللَّهُ عَلَيْهِ وسلّم قَال : « يَطَّلِعُ اللَّهُ تَعَالَى إلَى خَلْقِهِ لَيْلَةَ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَيَغْفِرُ لِعِبَادِهِ إلَّا اثْنَيْنِ مُشَاحِنٌ وَقَاتِلُ نَفْسٍ »
وَذَكَرَ بَعْضُهُمْ فِيهَا صَلَاةُ مَخْصُوصَةٌ وَأَنَّهَا تَعْدِل عِشْرِينَ حِجّةً مَبْرُورَةً وَصِيَام عِشْرِينَ سَنَةً مَقْبُولًا ، وَرُوِيَ فِي ذَلِكَ حَدِيثًا طَوِيلًا عَنْ عَلِيٍّ كَرَّمَ اللَّهُ تَعَالَى وَجْهَهُ ، وَقَدْ أَخْرَجَهُ الْبَيْهَقِيُّ ثُمَّ قَالَ : يُشْبِهُ أَنْ يَكُونَ هَذَا الْحَدِيثِ مَوْضُوعًا وَهُوَ مُنْكَرُ وَفِي رُوَاتِهِ مَجْهُولُونَ وَأَطَال الْوُعَّاظ الْكَلَامُ فِي هَذِهِ اللَّيْلَةِ وَذَكَر فَضَائِلِهَا وَخَوَاصِّهَا ، وَذَكَرُوا عِدَّةِ أَخْبَارٍ فِي أَنَّ الْآجَالَ تُنْسَخ فِيهَا . وَفِي الدُّرِّ الْمَنْثُورِ طَرَفٍ غَيْرِ يَسِيرٍ مِنْ ذَلِكَ وَسَنَذْكُر بَعْضًا مِنْهُ أَنَّ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى . وَفِي الْبَحْرِ قَالَ الْحَافِظُ أَبُو بَكْرٍ بْنُ الْعَرَبِيِّ : لَا يَصِحُّ فِيهَا شَيْءٌ وَلَا نَسْخٌ الْآجَال فِيهَا وَلَا يَخْلُو مِنْ مُجَازَفَةٌ وَاَللَّهُ تَعَالَى أَعْلَم .
১০।তাফসিরে রুহুল বয়ান ৩য় খন্ড ৫৯৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে- আল্লাহ পাক জাল্লা শানুহু উক্ত রুজি রোজগার ও রিজিক বন্টনের আনুষ্ঠানিক দায়িত্বভার হযরত মিকাঈল (আঃ) এর উপর, কার্যসমূহ ও বন্দেগীর দায়িত্ব ভার ১ম আসমানের ফেরেস্তা হযরত ইসরাইল (আঃ) এর উপর, বিপদাপদ ও দুঃখ দুর্দশায় দূরীকরনের দায়িত্বভার হযরত আযরাইল (আঃ) এর উপর অর্পণ করেন।
শবে বরাত যে মুসলিম উম্মার জন্য একটি বরকতময় ও ফজিলত পূর্ণ রাত্রি এতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। সমস্ত মুফাসসিরীন ও মুহাদ্দিসীনে কেরাম এ রাতকে একবাক্যে স্বীকার করে নিয়েছেন।
১১।গাউসূল আজম বড় পীর শেখ সৈয়্যদ আবূ মুহাম্মদ আবদুল কাদের জিলানী (র:) তদ্বীয় কিতাব “গুনিয়াতুত্ত্বালেবীন” এর ১ম খন্ডে-এ ৬৮৪ পৃষ্টায় উল্লেখ করেন-
قال الله عز وجل حمٓ۔وَٱلْكِتَٰبِ ٱلْمُبِينِ۔إِنَّآ أَنزَلْنَٰهُ فِى لَيْلَةٍ مُّبَٰرَكَةٍ إِنَّا كُنَّا مُنذِرِينَ۔فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ۔قَالَ اِبنِ عَبَّاسِ رضى الله عنهما حم قضى الله ما هو كائن الى يوم القيمة والكتاب المبين يعنى القران- انا انزلناه يعنى القران فى ليلة مباركة هى ليلة النصف من شعبان وهى ليلة البرأة وقال ذالك اكثر المفسرين-
অর্থাৎ:- আল্লাহ পাক এরশাদ করেন- হা-মী-ম প্রকাশ্য মহাগ্রন্থ আল কোরআনের শপথ- যে কোরআনকে আমি মুবারক (বরকতময়) রাতে নাযিল করেছি। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা:) এর তাফসীর প্রসংগে বলেন- কিয়ামত পর্যন্ত যা হওয়ার আছে- তা আল্লাহ পাক ফয়সালা করে দিয়েছেন। শপথ উজ্জল প্রকাশ্য গ্রন্থ তথা কোরআনের যাকে আমি বরকতময় রাতে অর্থাৎ শাবান মাসের মধ্যবর্তী রজনীতে নাযিল করেছি- ঐ ১৫ শাবানের রাতটি হচ্ছে লাইলাতুল বরাআত- এবং অধিকাংশ মোফাসসিরীনে কেরাম এ মত পোষন করেছেন।
হুজুর গাউছে পাক ( رضی الله عنه ) তদ্বীয় কিতার “গুনিয়াতুত্ত্বালেবীন” এর ১ম খন্ড-এ ১৮৭ পৃষ্টায় আরো বলেন-
منها سمى ليلة البرأة مباركة لما فيها من نزول الرحمة والبركة والخير والعفو والغفران-
অর্থাৎ ঃ লাইলাতুল বরাতকে এ কারণে “মুবারক” তথা বরকতময় বলা হয়েছে- যেহেতু এ পবিত্র রাতে দুনিয়াবাসীদের জন্য অফুরন্ত রহমত, বরকত ও কল্যাণ নাযিল করা হয়ে থাকে। অধিকন্তু পৃথিবীবাসী মুসলিমদেরকে এ রাতে ক্ষমা করা হয়ে থাকে।
১২।মালেকী মাযহাবের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন আল্লামা শেখ আহমদ ছাভী (র:) সূরা দুখানের তাফসীরে তদ্বীয় তাফসীরে ছাভী-র ৪র্থ খন্ডের ৪০ পৃষ্টায় উল্লেখ করেন-
(قوله لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شعبان) هُوَ قَوْلُ عِكْرِمَةَ وَطَائِفَةٌ وَوَجْه بِأُمُورٍ مِنْهَا أَنَّ لَيْلَةَ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ لَهَا أَرْبَعَةُ أَسْمَاءٍ اليلة الْمُبَارَكَة وَلَيْلَة الْبُرْأَة وَلَيْلَة الرَّحْمَة وَلَيْلَة الصَّكّ وَمِنْهَا فَضْلِ الْعِبَادَةِ فِيهَا -
অর্থাৎ ঐ বরকতময় রজনী হচ্ছে অর্ধ শাবানের রাত্রি (মোফাসসিরীনে কেরামের অন্যতম মোফাসসির) বিশিষ্ট তাবেয়ী হযরত ইকরামা (রা:) ও অন্যান্য তাফসীরকারকদের একদলের অভিমত। তারা এর কয়েকটি কারণও উল্লেখ করেছেন। শাবানের চৌদ্দ তারিখের দিবাগত রাত্রির চারটি নামে নামকরণ করেছেন। যেমন- ১। লাইলাতুম মুবারাকাহ- বরকতময় রজনী। ২। লাইলাতুল বারাআত- মুক্তি বা নাজাতের রাত্রি। ৩। লাইলাতুর রহমাহ- রহমতের রাত্রি। ৪। লাইলাতুছ ছাক-সনদপ্রাপ্তির রাত্রি ইত্যাদি।
১৩।তাফসির এ মুহাররুল ওয়াজিজ
- المحرر الوجيز — ابن عطية (٥٤٦ هـ)
﷽
واخْتَلَفَ الناسُ في تَعْيِينِ اللَيْلَةِ المُبارَكَةِ، فَقالَ قَتادَةُ، وابْنُ زَيْدٍ، والحَسَنُ: هي لَيْلَةُ القَدْرِ، وقالُوا: إنَّ كُتُبَ اللهِ تَعالى كُلَّها إنَّما نَزَلَتْ في رَمَضانَ، التَوْراةُ في أوَّلِهِ، والإنْجِيلُ في وسَطِهِ، والزَبُورُ في نَحْوِ ذَلِكَ، ونَزَلَ القُرْآنُ في آخِرِهِ في لَيْلَةِ القَدْرِ، ومَعْنى هَذا النُزُولِ: أنَّ ابْتِداءَ نُزُولِهِ كانَ في لَيْلَةِ القَدْرِ، وهَذا قَوْلُ الجُمْهُورِ. وقالَتْ فِرْقَةٌ: بَلْ أنْزَلَهُ اللهُ تَعالى جُمْلَةً لَيْلَةَ القَدْرِ إلى البَيْتِ المَعْمُورِ، ومِن هُنا كانَ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَلامُ يَتَلَقّاهُ، وقالَ عِكْرِمَةُ وغَيْرُهُ: اللَيْلَةُ المُبارَكَةُ هي لَيْلَةُ النِصْفِ مِن شَعْبانَ. وَقَوْلُهُ تَعالى: ﴿فِيها يُفْرَقُ كُلُّ أمْرٍ حَكِيمٍ﴾ مَعْناهُ: يَفْصِلُ مِن غَيْرِهِ ويَتَخَلَّصُ، ورُوَيَ عن عِكْرِمَةَ في تَفْسِيرِ هَذِهِ الآيَةِ أنَّ اللهَ تَعالى يَفْصِلُ لِلْمَلائِكَةِ في لَيْلَةِ النِصْفِ مِن شَعْبانَ، وقالَ الحَسَنُ، وعُمَرُ مَوْلى غَفْرَةَ، ومُجاهِدٌ، وقَتادَةُ: في لَيْلَةِ القَدْرِ يَفْصِلُ كُلُّ ما في العامِ المُقْبِلِ مِنَ الأقْدارِ والآجالِ والأرْزاقِ وغَيْرِ ذَلِكَ، ويَكْتُبُ ذَلِكَ لَهم إلى مِثْلِها مِنَ العامِ المُقْبِلِ، قالَ هِلالُ بْنُ يُسافَ: كانَ يُقالُ: انْتَظِرُوا القَضاءَ في شَهْرِ رَمَضانَ، ورُوِيَ في بَعْضِ الحَدِيثِ عَنِ النَبِيِّ ﷺ «أنَّ الرَجُلَ يَتَزَوَّجُ ويُعْرِّسُ وقَدْ خَرَجَ اسْمُهُ في المَوْتى، لِأنَّ الآجالَ تُقْطَعُ في شَعْبانَ،» وقَرَأ الحَسَنُ، والأعْرَجُ، والأعْمَشُ: "يُفَرِّقُ" بِفَتْحِ الياءِ وضَمِّ الراءِ، و"حَكِيمٍ": بِمَعْنى: مُحْكَمٍ.
وقَوْلُهُ تَعالى: ﴿ "أمْرًا"﴾ نُصِبَ عَلى المَصْدَرِ، و"مِن عِنْدِنا": صِفَةٌ لِقَوْلِهِ تَعالى: "أمْرًا"، وقَوْلُهُ تَعالى: ﴿إنّا كُنّا مُرْسِلِينَ﴾ يُحْتَمَلُ أنْ يُرِيدَ الرُسُلَ والأنْبِياءَ عَلَيْهِمُ السَلامُ، ويُحْتَمَلُ أنْ يُرِيدَ الرَحْمَةَ الَّتِي ذَكَرَ بَعْدُ، وعَلى التَأْوِيلِ الأوَّلِ نُصِبَ قَوْلُهُ تَعالى: "رَحْمَةً" عَلى المَصْدَرِ، ويُحْتَمَلُ أنْ يَكُونَ نَصْبُها عَلى الحال
ِ.১৪।তাফসিরে আল জাওয়াহিরুল হিসানন
الجواهر الحسان — الثعالبي (٨٧٥ هـ)
﷽﴿حمۤ (١) وَٱلۡكِتَـٰبِ ٱلۡمُبِینِ (٢) إِنَّاۤ أَنزَلۡنَـٰهُ فِی لَیۡلَةࣲ مُّبَـٰرَكَةٍۚ إِنَّا كُنَّا مُنذِرِینَ (٣)﴾ [الدخان ١-٣]
وهي مكّيّة
حم وَالْكِتابِ الْمُبِينِ إِنَّا أَنْزَلْناهُ فِي لَيْلَةٍ مُبارَكَةٍ ... الآية، قوله: وَالْكِتابِ الْمُبِينِ قَسَمٌ أقسم اللَّه تعالى به، وقوله: إِنَّا أَنْزَلْناهُ يحتمل أنْ يقَعَ القَسَمُ عليه، ويحتملُ أَنْ يكون وصفاً للكتاب، ويكون الذي وقع القَسَمُ عليه إِنَّا كُنَّا مُنْذِرِينَ، / واخْتُلِفَ في تعيين الليلة المباركة، فقال قتادَةُ، والحسن، وابن زيد: هي ليلة القَدْرِ(١) ، ومعنى هذا النزول أَنَّ ابتداء نزوله كان في ليلة القَدْرِ وهذا قول الجمهور،، وقال عِكْرَمَةَ:
الليلة المباركة هي ليلة النصف من شعبان(٢) ، قال القرطبيّ: الصحيح أَنَّ الليلةَ التي يُفْرَقُ فِيهَا كُلَّ أَمْرٍ حَكِيمٍ، ليلةُ القَدْرِ مِنْ شَهْر رمضانَ، وهي الليلة المباركة، انتهى من «التذكرة» ، ونحوُهُ لابن العربيّ.
(١) أخرجه الطبري (11/ 220) برقم: (31026، 31028) عن قتادة، وابن زيد، وذكره البغوي في «تفسيره» (4/ 148) عنهما، وابن عطية (5/ 68) ، والسيوطي في «الدر المنثور» (5/ 738) ، وعزاه إلى عبد الرزاق، وعبد بن حميد عن قتادة.
(٢) ذكره ابن عطية (5/ 68) .
১৫।তাফসির এ ইবনে কাছির
.تَفْسِير بْنُ كَثِيرٍ
يَقُولُ تَعَالَى مخبراً عَنْ الْقُرْآنِ الْعَظِيمِ ، أَنَّه أَنْزَلَه فِي لَيْلَةٍ مُبَارَكَةٍ وَهِيَ لَيْلَةُ الْقَدْرِ ، كَمَا قَالَ عزَّ وجلَّ : { إنا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ القدر } وَكَانَ ذَلِكَ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ ، كَمَا قَالَ تَبَارَكَ وتعالى : { شهر رَمَضَانَ الَّذِي أَنْزَلَ فِيهِ القرآن } ، وَقَوْلُه عزَّ وجلَّ : { إنا كُنَّا منذرين } أَي مُعَلَّمَيْن النَّاسِ مَا يَنْفَعُهُمْ ويضرهم شرعاً لِتَقُومُ حُجَّةُ اللّه عَلَى عِبَادِهِ ، وقوله : { فيها يُفْرَقُ كُلّ أَمْرٍ حكيم } أَيْ فِي لَيْلَةٍ الْقَدْرِ يُفَصَّلُ مِنْ اللَّوْحِ الْمَحْفُوظِ إلَى الْكَتَبَة أَمَّرَ السُّنَّةَ ، وَمَا يَكُونُ فِيهَا مِنْ الْآجَالِ وَالْأَرْزَاقَ وَمَا يَكُونُ فِيهَا إلَى آخِرِهَا ، وَقَوْلُه جلَّ وعلا : { حكيم } أَي مُحَكَّمٍ لَا يُبَدَّلُ وَلَا يُغَيَّرُ ، وَلِهَذَا قَالَ جلَّ جَلَالُه { أمراً مِن عندنا } أَيْ جَمِيعِ مَا يَكُونُ ويقدره اللّه تَعَالَى وَمَا يوحيه فبأمره وَإِذْنُه وَعِلْمِه { إنا كُنَّا مرسلين } أَيْ إلَى النَّاسِ رسولاً يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتُ اللّه مُبَيِّنات ، فَإِنَّ الْحَاجَةَ كَانَتْ مَاسَّةٌ إلَيْهِ ، وَلِهَذَا قَالَ تعالى : { رحمة مِنْ رَبِّكَ أَنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بينهما } أَيْ الَّذِي أَنْزَلَ الْقُرْآنُ هُوَ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وخالقهما ومالكهما وَمَا فِيهِمَا ، { إن كُنْتُم موقنين } أَيْ إنْ كُنْتُمْ متحققين ، ثُمَّ قَالَ تعالى : { لا إلَهَ إلَّا هُوَ يُحْيِي وَيُمِيتُ رَبِّكُم وَرَبّ آبَائِكُم الأولين } وَهَذِهِ الْآيَةُ كَقَوْلِهِ تعالى : { قل يَا أَيُّهَا النَّاسُ إنِّي رَسُولُ اللّه إلَيْكُم جميعاً لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَا إلَهَ إلَّا هُوَ يُحْيِي ويميت } الْآيَة
১৬।
تفسير السمعاني [أبو المظفر السمعاني]
وَالْقَوْل الثَّانِي: قَول عِكْرِمَة، وَهُوَ أَنَّهَا لَيْلَة النّصْف من شعْبَان، وسماها مباركة لِكَثْرَة الْخَيْر فِيهَا. وَالْبركَة: نَمَاء الْخَيْر، ونقيضة الشؤم: نَمَاء الشَّرّ.
قَوْله تَعَالَى: {إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَة مباركة} فِيهِ قَولَانِ: أَحدهمَا: أَنَّهَا لَيْلَة الْقدر، وَهَذَا قَول ابْن عَبَّاس وَالْحسن وَسَعِيد بن جُبَير وَأكْثر الْمُفَسّرين.
وَالْقَوْل الثَّانِي: قَول عِكْرِمَة، وَهُوَ أَنَّهَا لَيْلَة النّصْف من شعْبَان، وسماها مباركة لِكَثْرَة الْخَيْر فِيهَا. وَالْبركَة: نَمَاء الْخَيْر، ونقيضة الشؤم: نَمَاء الشَّرّ. وَقيل: مباركة لِأَنَّهُ يُرْجَى فِيهَا إِجَابَة الدُّعَاء.
১৭।
فتح القدير للشوكاني [الشوكاني]
قَالَ عِكْرِمَةُ: اللَّيْلَةُ الْمُبَارَكَةُ هُنَا لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ.
وَالْأَوَّلُ أَوْلَى. وَاللَّيْلَةُ الْمُبَارَكَةُ: لَيْلَةُ الْقَدْرِ كَمَا فِي قَوْلِهِ: إِنَّا أَنْزَلْناهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ «١» وَلَهَا أَرْبَعَةُ أَسْمَاءٍ: اللَّيْلَةُ الْمُبَارَكَةُ، وَلَيْلَةُ الْبَرَاءَةِ، وَلَيْلَةُ الصَّكِّ، وَلَيْلَةُ الْقَدْرِ. قَالَ عِكْرِمَةُ: اللَّيْلَةُ الْمُبَارَكَةُ هُنَا لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ.
تَفْسِيرُ الْقُرْآنِ الْعَظِيمِ - السَّخَاوِيّ [علم الدِّين السخاوي]
وَقِيل : لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ ، وَلَهَا أَسْمَاءٌ أَرْبَعَة : اللَّيْلَة الْمُبَارَكَة ، وَلَيْلَةُ الْبَرَاءَةِ ، وَلَيْلَة الصَّكّ ، وَلَيْلَة الرَّحْمَة . وَقِيل : بَيْنَهَا وَبَيْنَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ أَرْبَعُونَ لَيْلَةً .
وَقِيل : لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ ، وَلَهَا أَسْمَاءٌ أَرْبَعَة : اللَّيْلَة الْمُبَارَكَة ، وَلَيْلَةُ الْبَرَاءَةِ ، وَلَيْلَة الصَّكّ ، وَلَيْلَة الرَّحْمَة . وَقِيل : بَيْنَهَا وَبَيْنَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ أَرْبَعُونَ لَيْلَةً . وَقِيلَ فِي تَسْمِيَتِهَا لَيْلَةَ الْبَرَاءَةِ وَلَيْلَةِ الصَّكّ :
১৮।
رَوْحٌ الْبَيَان [إسماعيل حقي]
التَّرْوِيَة وَلَيْلَةُ عَرَفَةَ وَلَيْلَةُ النَّحْر وَلَيْلَة الْفِطْر وَلَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ وَالثَّالِثَة نُزُولِ الرَّحْمَةِ قَالَ عَلَيْهِ السَّلَامُ أَنْ اللَّهَ يَنْزِلُ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ إلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا أَىّ تَنْزِل رَحْمَتِه وَالْمُرَاد فِى الْحَقِيقَة تَنْزِل عَظِيمٍ مِنْ تنزلات
এ ছাড়া ও এ রকম ২৩১ টি তাফসীর গ্রন্থে লাইলাতুম মোবারাকা বলতে শবে ক্বদরের পাশাপাশি মধ্য শাবানের অর্থাৎ ১৪ শাবানের রাতের কথাও গুরুত্ব সহকারে বলা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য কিতাবসমূহের নাম-
(১).তাফসীরে ইবনু আবি হাতেম, খণ্ড-১২, পৃষ্ঠা-২১৪। (২).তাফসীরে রুহুল মায়ানী, খণ্ড-২৫, পৃষ্ঠা-১১০। (৩).তাফসীরে বাহরুল মুহীত, খণ্ড-৮, পৃষ্ঠা-২৪।
(৪).তাফসীরে ফাতহুল কাদীর, খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা-৫৭০। (৫).তাফসীরে যাদুল মাছির, খণ্ড-৭, পৃষ্ঠা-১২২।
(৬).তাফসীরে নাসাফী, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-৩০২।
(৭). তাফসীরে নিসাপুরী, খণ্ড-৬, পৃষ্ঠা-৪৯০।
(৮). তাফসীরে কাশ্শাফ, খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা-২৭২।
(৯).তাফসীরে নুকুত ওয়াল উয়ূন, খণ্ড-৬, পৃষ্ঠা-৪৯০।
(১০).তাফসীরে দুররে মানসূর, খণ্ড-১২, পৃষ্ঠা-৬৯।
(১১).তাফসীরে খাজেন, খণ্ড-৬, পৃষ্ঠা-১৪৩।
(১২).তাফসীরে আল বোরহান, খণ্ড-২৩, পৃষ্ঠা-১১৬।
(১৩).তাফসীরে রাযী, খণ্ড-১৭, পৃষ্ঠা-১৩৩।
(১৪).তাফসীরে আলুসী, খণ্ড-১৮, পৃষ্ঠা-৪২৪।
(১৫).তাফসীরে হাক্কী, খণ্ড-৫, পৃষ্ঠা-৬।
(১৬).তাফসীরে কুরতুবী, খণ্ড-১৬, পৃষ্ঠা-১২৭।
(১৭).তাফসীরে সাভী, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-৩০২।
(১৮).তাফসীরে ইবনে কাসীর, খণ্ড-৭, পৃষ্ঠা-২৪৬।
(১৯).তাফসীরে জামিউল বায়ান, খণ্ড-২০, পৃষ্ঠা-১৫১।
(২০).তাফসীরে নুসূকী, খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা-১২০।
(২১).তাফসীরে কাদের, খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা-১৬৬।
(২২).তাফসীরে মাযহারী, খণ্ড-৮, পৃষ্ঠা-৩৬৮।
(২৩).তাফসীরে কাসেমী, খণ্ড-৮, পৃষ্ঠা-৩৬৮।
(২৪).তাফসীরে কোশাইরী, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-১৯০,।
(২৫).তাফসীরে আবু সাউদ, খণ্ড-৬, পৃষ্ঠা-১৩০।
(২৬).তাফসীরে আয়াতুল আহকাম, খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা-১৬৬।
(২৭).তাফসীরে রুহুল বয়ান, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-৫৯৮।
(২৮).তাফসীরে কাশেফুল আসরার, খণ্ড-৯, পৃষ্ঠা-৯৪-৯৮।
(২৯).তাফসীরে মাওয়ারদী, খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা-১০২।
(৩০).তাফসীরে সিরাজুম মুনির, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-৪৫৮।
ফুক্বাহায়ে কেরামের দৃষ্টিতে লাইলাতুল বারা‘আত 🕋
🕋 ফিক্বহে হানাফীঃ
আল্লামা শামী, ইবনে নুজাইম, আল্লামা শরমবুলালী, শাইখ আব্দুল হক দেহলভী, হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী, মাওলানা আব্দুল হাই লাক্ষনৌভী, মুফতী মুহাম্মদ শফী সাহেব রহ. সহ প্রমুখ উলামায়ে কেরামের মতে লাইলাতুল বারা‘আতে শক্তি সামর্থ্য অনুযায়ী জাগ্রত থেকে একাকীভাবে ইবাদত করা মুস্তাহাব, তবে জমায়েত হয়ে নয়। (আদ দুররুল মুখতার-২/২৪-২৫, আল বাহরুর রায়িক-২/৫২, মা ছাবাতা বিসসুন্নাহ-৩৬, মারাক্কিল ফালাহ-২১৯, জাওয়ালুস সিনাহ-১৭, লাইলাতুল বরা‘আতের হাক্বীক্বত- শাইখুল ইসলাম মুফতী মুহাম্মদ তাক্বী উসমানী)
🕋 ফিক্বহে শাফেয়ীঃ
ইমাম শাফী রহ.-এর মতেও শা‘বানের ১৫তম রাতে অধিক অধিক দু‘আ কবূল হয়ে থাকে। (কিতাবুল উম্ম-১/২৩১)
🕋 ফিক্বহে হাম্বলীঃ
শাইখ ইবনে মুফলিহ হাম্বলী, আল্লামা মানসূর আল বাহুতী এবং ইবনে রজব হাম্বলী রহ. সহ প্রমূখ উলামায়ে কিরামের নিকট লাইলাতুল বারা‘আতে ইবাদাত করা মুস্তাহাব। (দেখুন! আল মাবদা-২/২৭, কাশশাফুল কিনা-১/৪৪৫, লাত্বায়িফুল মা‘আরিফ-১৫১-৬০)
🕋 ফিক্বহে মালিকীঃ
ইবনুল হাজ্জ্ব মালিকী রহ. বলেন সলফে সালিহীন তথা পূর্বযুগের আউলিয়াগণ এ রাতকে যথেষ্ট সম্মান করতেন এবং এর জন্য পূর্ব থেকে প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন। (আল মাদখাল-১/২৯২-৯৩)
সারকথাঃ সকল মাযহাবের উলামায়ে কিরামের মতে লাইলাতুল বারা‘আতে ইবাদাত করা মুস্তাহাব।
আহলুল হাদীস ভাইদের প্রতি আবেদন
লাইলাতুল বারা‘আত সম্পর্কে কোন আপত্তি থাকলে আপনারা শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ রহ.-এর ইক্বতিযাউস সিরাতুল মুস্তাক্বীম-২/৬৩১-৬৪৩, আলবানী রহ. এর সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহ-৩/১৩৫-১৩৯, ইমাম মুবারকপুরীর তুহফাতুল আহওয়াজী-২/৫৩ এবং ইবনে রজব হাম্বলীর লাত্বায়িফুল মা‘আরিফ ১৫১-১৬০ ইত্যাদি প্রমুখ উলামাদের কিতাব দেখুন।
এ রাতের নফল আমলসমূহ সম্মিলিত নয়, ব্যক্তিগত
এ বিষয়টিও মনে রাখতে হবে যে, এ রাতের নফল আমলসমূহ, বিশুদ্ধ মতানুসারে একাকীভাবে করণীয়। ফরয নামাযতো অবশ্যই মসজিদে আদায় করতে হবে। এরপর যা কিছু নফল পড়ার তা নিজ নিজ ঘরে একাকী পড়বে। এসব নফল আমলের জন্য দলে দলে মসজিদে এসে সমবেত হওয়ার কোন প্রমাণ হাদীস শরীফেও নেই আর সাহাবায়ে কেরামরে যুগেও এর রেওয়াজ ছিল না। [ইক্তিযাউস সিরাতিল মুসতাকীম ২/৬৩১-৬৪১; মারাকিল ফালাহ ২১৯]
অবে কোন আহবান ও ঘোষণা ছাড়া এমনিই কিছু লোক যদি মসজিদে এসে যায়, তাহলে প্রত্যেকে নিজ নিজ আমলে মশগুল থাকবে, একে অন্যের আমলের ব্যাঘাত সৃষ্টির কারণ হবে না।
ফিকাহের কিতাবে লাইলাতুল বরাত
مَرَاقِي الْفَلَاح شَرْحِ نُورِ الْإِيضَاحِ [الشرنبلالي]
عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : "من أَحْيَا اللَّيَالِي الْخَمْس وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ لَيْلَة التَّرْوِيَة وَلَيْلَةُ عَرَفَةَ وَلَيْلَةُ النَّحْر وَلَيْلَة الْفِطْر وَلَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شعبان" وَقَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : "من قَامَ لَيْلَةَ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ وَلَيْلَتِي الْعِيدَيْن لَمْ يَمُتْ قَلْبُهُ يَوْمَ
نُدِب إحْيَاء "ليلة النِّصْفِ مِنْ شعبان" لِأَنَّهَا تُكَفَّرُ ذُنُوبَ السُّنَّة وَاللَّيْلَة الْجُمُعَة تُكَفِّرُ ذُنُوبَ الْأُسْبُوع وَلَيْلَةِ الْقَدْرِ تُكَفِّرُ ذُنُوبَ الْعُمْر وَلِأَنَّهَا تُقَدَّرُ فِيهَا الْأَرْزَاقُ وَالْآجَال والإغناء والإفقار وَالْإِعْزَاز والإذلال وَالْإِحْيَاءِ وَالْإِمَاتَةِ وَعَدَد الْحَاجِّ وَفِيهَا يَسِح اللَّهُ تَعَالَى الْخَيْرَ سَحًّا وَخَمْسٌ لَيَالِي لَا يَرِدُ فِيهِنّ الدُّعَاء لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ وَأَوَّلُ لَيْلَةٍ مِنْ رَجَبٍ وَلَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ وليلتا الْعِيدَيْن . وَقَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : "إذا كَانَ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَقُومُوا لَيْلهَا وَصُومُوا نَهَارَهَا فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَنْزِل فِيهَا لِغُرُوبِ الشَّمْس إلَى السَّمَاءِ فَيَقُولُ أَلَا مُسْتَغْفِر فَأَغْفِر لَهُ إلَّا مسترزق فأرزقه حَتَّى يَطْلُعَ الفجر" وَقَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : "من أَحْيَا اللَّيَالِي الْخَمْس وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ لَيْلَة التَّرْوِيَة وَلَيْلَةُ عَرَفَةَ وَلَيْلَةُ النَّحْر وَلَيْلَة الْفِطْر وَلَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شعبان" وَقَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : "من قَامَ لَيْلَةَ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ وَلَيْلَتِي الْعِيدَيْن لَمْ يَمُتْ قَلْبُهُ يَوْمَ تَمُوتُ القلوب"ومعنى الْقِيَامِ أَنْ يَكُونَ مُشْتَغِلًا مُعْظَمُ اللَّيْلِ بِطَاعَة وَقِيلَ بِسَاعَةٍ مِنْه يَقْرَأُ أَوْ يَسْمَعُ الْقُرْآنِ أَوْ الْحَدِيثِ أَوْ يُسَبِّحُ أَوْ يُصَلِّي عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ بِصَلَاةِ الْعِشَاءِ فِي جَمَاعَةٍ وَالْعَزْمُ عَلَى صَلَاةِ الصُّبْحِ جَمَاعَةً كَمَا إحْيَاءُ لَيْلَتَيْ الْعِيدَيْنِ , وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : "من صَلَّى الْعِشَاءَ فِي جَمَاعَةٍ فَكَأَنَّمَا قَامَ نِصْفَ اللَّيْلِ وَمَنْ صَلَّى الصُّبْحَ فِي جَمَاعَةٍ فَكَأَنَّمَا قَامَ اللَّيْلَ كله" رَوَاهُ مُسْلِمٌ .
حَاشِيَة الطَّحْطَاوِيّ عَلَى مَرَاقِي الْفَلَاح شَرْحِ نُورِ الْإِيضَاحِ [الطحطاوي]
الْجُمُعَة وَأَوَّلُ لَيْلَةٍ مِنْ رَجَبٍ وَلَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ وليلتا الْعِيدَيْن .
مِن شعبان" لِأَنَّهَا تُكَفَّرُ ذُنُوبَ السُّنَّة وَاللَّيْلَة الْجُمُعَة تُكَفِّرُ ذُنُوبَ الْأُسْبُوع وَلَيْلَةِ الْقَدْرِ تُكَفِّرُ ذُنُوبَ الْعُمْر وَلِأَنَّهَا تُقَدَّرُ فِيهَا الْأَرْزَاقُ وَالْآجَال والإغناء والإفقار وَالْإِعْزَاز والإذلال وَالْإِحْيَاءِ وَالْإِمَاتَةِ وَعَدَد الْحَاجِّ وَفِيهَا يَسِح اللَّهُ تَعَالَى الْخَيْرَ سَحًّا وَخَمْسٌ لَيَالِي لَا يَرِدُ فِيهِنّ الدُّعَاء لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ وَأَوَّلُ لَيْلَةٍ مِنْ رَجَبٍ وَلَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ وليلتا الْعِيدَيْن . وَقَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : "إذا كَانَ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَقُومُوا لَيْلهَا وَصُومُوا نَهَارَهَا فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَنْزِل فِيهَا لِغُرُوبِ الشَّمْس إلَى السَّمَاءِ فَيَقُولُ أَلَا مُسْتَغْفِر فَأَغْفِر لَهُ إلَّا مسترزق فأرزقه حَتَّى يَطْلُعَ الفجر" وَقَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : "من أَحْيَا اللَّيَالِي الْخَمْس وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ لَيْلَة التَّرْوِيَة وَلَيْلَةُ عَرَفَةَ وَلَيْلَةُ النَّحْر وَلَيْلَة الْفِطْر وَلَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شعبان" وَقَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : "من قَامَ لَيْلَةَ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ وَلَيْلَتِي الْعِيدَيْن لَمْ يَمُتْ قَلْبُهُ يَوْمَ تَمُوتُ القلوب" وَمَعْنَى الْقِيَامِ أَنْ يَكُونَ مُشْتَغِلًا مُعْظَمُ اللَّيْلِ بِطَاعَة وَقِيلَ بِسَاعَةٍ مِنْه يَقْرَأُ أَوْ يَسْمَعُ الْقُرْآنِ أَوْ الْحَدِيثِ أَوْ يُسَبِّحُ أَوْ يُصَلِّي عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ بِصَلَاةِ الْعِشَاءِ جَمَاعَةٌ وَالْعَزْمُ عَلَى صَلَاةِ الصُّبْحِ جَمَاعَةً كَمَا فِي إحْيَاءِ لَيْلَتَيْ
ــ .
حاشية ابن عابدين = رد المحتار ط الحلبي [ابن عابدين]
(قَوْلُهُ وَالنِّصْفِ) أَيْ وَإِحْيَاءُ لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ. (قَوْلُهُ وَالْأُوَل) أَيْ وَلَيَالِي الْعَشْرِ الْأُوَلِ إلَخْ.
حاشية ابن عابدين = رد المحتار ط الحلبي [ابن عابدين]
لَيْلَةُ عَرَفَةَ، ثُمَّ لَيْلَةُ الْجُمُعَةِ، ثُمَّ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ، ثُمَّ لَيْلَةُ الْعِيدِ (قَوْلُهُ وَصَلَّى الْفَجْرَ بِغَلَسٍ) أَيْ ظُلْمَةٍ فِي أَوَّلِ وَقْتِهَا، وَلَا يُسَنُّ
عَنْ بَعْضِ الشَّافِعِيَّةِ: أَنَّ أَفْضَلَ اللَّيَالِي لَيْلَةُ مَوْلِدِهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - ثُمَّ لَيْلَةُ الْقَدْرِ، ثُمَّ لَيْلَةُ الْإِسْرَاءِ وَالْمِعْرَاجِ، ثُمَّ لَيْلَةُ عَرَفَةَ، ثُمَّ لَيْلَةُ الْجُمُعَةِ، ثُمَّ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ، ثُمَّ لَيْلَةُ الْعِيدِ
حاشية ابن عابدين = رد المحتار ط الحلبي [ابن عابدين]
وَقَدَّمْنَا بَعْضَ الْكَلَامِ عَلَيْهَا عِنْدَ قَوْلِهِ وَإِحْيَاءُ لَيْلَةِ الْعِيدَيْنِ. (قَوْلُهُ وَبَرَاءَةٍ) هِيَ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ.
وَقَدَّمْنَا بَعْضَ الْكَلَامِ عَلَيْهَا عِنْدَ قَوْلِهِ وَإِحْيَاءُ لَيْلَةِ الْعِيدَيْنِ.
(قَوْلُهُ وَبَرَاءَةٍ) هِيَ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ.
فتاوى الرملي [شهاب الدين الرملي]
(سُئِلَ) عَنْ صَوْمِ مُنْتَصَفِ شَعْبَانَ كَمَا رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ عَنْ النَّبِيِّ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - أَنَّهُ قَالَ «إذَا كَانَتْ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَقُومُوا لَيْلَهَا
سُئِلَ) عَنْ صَوْمِ مُنْتَصَفِ شَعْبَانَ كَمَا رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ عَنْ النَّبِيِّ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - أَنَّهُ قَالَ «إذَا كَانَتْ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَقُومُوا لَيْلَهَا وَصُومُوا نَهَارَهَا» هَلْ هُوَ مُسْتَحَبٌّ أَوْ لَا وَهَلْ الْحَدِيثُ صَحِيحٌ أَوْ لَا وَإِنْ كَانَ ضَعِيفًا فَمَنْ ضَعَّفَهُ؟ (فَأَجَابَ) بِأَنَّهُ يُسَنُّ صَوْمُ نِصْفِ شَعْبَانَ بَلْ يُسَنُّ صَوْمُ ثَالِثَ عَشَرِهِ وَرَابِعَ عَشَرِهِ وَخَامِسَ عَشَرِهِ وَالْحَدِيثُ الْمَذْكُورُ يُحْتَجُّ بِهِ.